এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না 

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না 

মিঠুন মিয়া ৬:১২ অপরাহ্ণ, জুন ০৬, ২০১৬

 এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না 

কবি নবারুন ভট্টাচার্যের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতার কয়েকটি চরণ দিয়েই লেখাটি শুরু করতে হচ্ছে। এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না/এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না?এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না? আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব/ বুকের মধ্যে টেনে নেব কুয়াশায় ভেজা কাশ বিকেল ও ভাসান/ সমস্ত শরীর ঘিরে জোনাকি না পাহাড়ে পাহাড়ে জুম/ অগণিত হৃদয় শস্য, রূপকথা ফুল নারী নদী...। বর্তমানে বাংলাদেশের আতঙ্কিত হত্যাকাণ্ডগুলো যেন কবি নবারুন ভট্টাচার্যের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’কবিতাটি স্মরণ করে দেয়।


এক হত্যাকাণ্ডের জের কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেক হত্যাকাণ্ড। এক শোকের ছায়া কাটতে না কাটতেই ফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। যেন হত্যাকাণ্ডের এক উর্বর ভূমিতে পরিণত হতে যাচ্ছে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে কেনা এই বাংলাদেশটি। এখানে নির্বাচন হলেই মানুষ হত্যা করা হয়, ক্ষমতা দখলের জন্য মানুষ হত্যা করা হয় আর মানুষ হত্যা করা হয় ধর্মের নামেও। হত্যার পর হত্যা। যেনো হত্যা ছাড়া আর কোনো পন্থা নেই। প্রতিবাদের পর প্রতিবাদ। হত্যাকারীদের শাস্তি হচ্ছে, ফাঁসিও কার্যকর হচ্ছে তবুও থামছে না হত্যা।

এবার হত্যার শিকার হলেন পুলিশ সুপারের স্ত্রী। যেখানে আইনশৃঙ্খলার লোকজনও রক্ষা পাচ্ছে না। এক হত্যার পর অপেক্ষা আরেক হত্যার। এভাবে কি সমাজ ব্যবস্থা চলতে পারে? তারপর এই হত্যাভীতি নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। পৃথিবীতে জীবনের মতো মহামূল্যবান জিনিস আর নেই। মানুষের কাছে তার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জীবন। কিন্তু এখন সেই জীবনেরই কোনো মূল্য নেই। যেকোনো সময় কেড়ে নেওয়া হচ্ছে জীবন। চলছে চা-পাতির আক্রমণ। মানুষ হচ্ছে সভ্যতার রূপকার এবং মানুষ ছাড়া সভ্যতা অর্থহীন। আর সেই মানুষ হত্যায় মত্ত হয়ে উঠেছে দুর্বৃত্তরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্লগার, প্রকাশক, অধ্যাপক, শিক্ষার্থী, বিদেশী নাগরিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, মানবাধিকারকর্মী, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষজনকে পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটছেই। একের পর এক এই সব হত্যাকাণ্ড সমাজকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। প্রশ্নবিদ্ধ করছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে। এই সব হত্যাকাণ্ডে দেশ-বিদেশ থেকে উদ্বেগও প্রকাশ করা হচ্ছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে হত্যাই কি শেষ সমাধান? কিংবা দাবি আদায় বা মতামত প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ কি হত্যাই! হত্যার বাইরে কি আর কিছুই নেই। মানুষ হত্যা করলেই কি সমস্ত কিছু অর্জন হয়ে যাবে? কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই প্রতিনিয়ত নগ্ন হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে নিষ্পাপ শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

আইএসের নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ আমরা মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিনিয়ত অবলোকন করছি। তাদের বর্বর হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। শিশুরাও তাদের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। একের পর এক হামলায় ভেঙে পড়ছে সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা। গৃহহীন হয়ে পড়ছে মানুষ। কেবল আরব দেশে নয়, এই আইএসের আক্রমণের শিকার হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোও। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় একই সময়ে কয়েকটি স্থানে বোমা হামলা ও বন্দুকধারীদের গুলিতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকেই সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়াও ২২ মার্চ বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের ইয়াবেনতেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয়ের নিকটবর্তী মালবিক মেট্রো স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত এবং ২৭০ জন আহত হন।

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে। সর্বশেষ চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার সকাল সাতটার দিকে বাসা থেকে ৩০০ গজ দূরত্বে নগরের পাঁচলাইশ থানার জিইসি মোড়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। জঙ্গিবিরোধী অভিযানে এসপির সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। জিইসি মোড় এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকে বাবুল আক্তারের স্ত্রীর মরদেহ। পরনে কালো বোরকা। মাথায় হিজাব।

এতো দিন আমরা কেবল পুরুষদের উপর হামলা দেখলাম। কিন্তু এখন এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নারীও। পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যা একটি পৈশাচিক, নৃশংস এবং ঘৃণিত হত্যাকাণ্ড। বাবুল আক্তার জঙ্গি দমনে একের পর এক দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। জঙ্গিগোষ্ঠীর টার্গেট ছিলেন বাবুল আক্তার। তাকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে টার্গেট করে জঙ্গিরা হত্যা করেছে।’

যারা মানুষ হত্যাকেই শেষ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে, তারা কখনই তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না। হত্যা কখনো দাবি আদায়ের পথ হতে পারে না। হত্যাকারীরা ভুলে গেছে- মানবসভ্যতার ইতিহাসের কথা। হত্যার মধ্য দিয়ে আমরা আজকের আধুনিক সভ্যতায় উপনীত হইনি। এই সভ্যতার ভীত রচিত হয়েছে শান্তি, কল্যাণ, মহৎ মানুষের অবদান, ভ্রাতৃত্বে সুদৃঢ় বন্ধন এবং ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানীরা হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালিকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তারা নির্বিচারে হত্যা চালায় আমাদের নিরীহ মানুষের উপর। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে তারা শেষাবধি কিছুই অর্জন করতে পারেনি। আমরা ঠিকই স্বাধীনতা অর্জন করেছি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও আমরা দেখেছি হিটলার নির্বিচারে ইহুদিদের হত্যা করেছে। কিন্তু হত্যার মধ্য দিয়ে হিটলার তার দাবি আদায় করতে পারেনি। অবশ্য বর্তমানে সেই রকম অবস্থা আর নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ৩৭টি হত্যার ঘটনার মধ্যে ২৫টির সঙ্গে সরাসরি জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) জড়িত। আর আটটির সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এবং বাকি চারটির সঙ্গে অন্যান্য জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত বলে সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে একই পদ্ধতিতে এবং বেশীরভাগ ঘটনার পরেই কথিত ইসলামিক স্টেটকে এর দায় স্বীকার করতে দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে জঙ্গিদের লক্ষ্য ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। সেটাই যদি হয়ে থাকে তাহলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ধর্ম প্রতিষ্ঠার পথ কি হত্যা!

মানুষ হত্যা করেই কি ধর্মের অনুশাসন কায়েম করতে হবে? ধর্ম কি তাই বলে? কিন্তু মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে ধর্ম প্রতিষ্ঠার নজির কোনো ধর্মেই নেই। আমাদের ইসলাম ধর্ম কি মানুষ হত্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মহানবী (সাঃ) তার আদর্শ এবং সৎ গুণাবলীর মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি শান্তি এবং কল্যাণের কথা বলেছেন। তার কথার মাধ্যমে সেসময় মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। তিনি সকল ধর্মের মানুষকে সম্মান দেখিয়েছেন। এই মহামানব ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে কত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি তা মুখ বুজে সহ্য করেছেন। তারপরও তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। কিন্তু এখন আইএস নামে একটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে বিশ্বব্যাপী নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। তারা ভুলে গেছে ইসলামের আদর্শ। তারা ধর্মকে ভুল ব্যাখ্যা করে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত। এই সব হত্যার সাথে ইসলামের মতো শান্তির ধর্মের নাম জড়িয়ে দিয়ে ইসলামকে কলুষিত করছে। ইসলাম ধর্মের ভাবমূর্তি তারা ক্ষুণ্ণ করছে। মানুষ হত্যা মহাপাপ এবং জঘন্য কাজ।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। কেবল তাই নয়, ইসলাম ভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করছে- তারা কোনো ধর্মের লোক হতে পারে না। তাদের কোনো ধর্ম নেই। যারা মানুষ হত্যা করে তারা কোনো ধর্মের অনুসারী হতে পারে না। মানুষ হত্যার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শ কোনোভাবেই কল্যাণকর হতে পারে না। মানুষ হত্যা ছাড়াও বর্তমান বিশ্বে ধর্ম এবং নিজস্ব মতামত প্রতিষ্ঠার নানা পথই রয়েছে। কেবল তাই নয়, এখন সারা বিশ্বে ইসমালী দাওয়াতের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশে তাবলীগ জামায়াতসহ এখনও কিছু ধর্মীয় সংগঠন রয়েছে, যারা মানুষকে ধর্মের কথা বলে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তারা ইসলামের শান্তির কথা বলে থাকেন। তারাও তো ধর্মের প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাহলে হঠাৎ কেন ধর্মের নামে মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো গুপ্ত হত্যার এই নারকীয় তাণ্ডব।

বাংলাদেশে এখনও এমন পরিবেশ তৈরি হয়নি যাতে ভিন্ন মত প্রকাশ করার জন্য মানুষ হত্যা করতে হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো আমাদের এখানে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য মানুষ হত্যা করা হয়। এর আগেও আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে টানা অবরোধ ঘোষণা করেছিল। অবরোধ চলাকালে দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষকে পেট্টোল বোমায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় শতশত যানবাহন। নির্বাচন ঠেকানোর নামে দেশের প্রায় পাঁচশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কতকগুলো টোকাই এবং দুর্বৃত্তদের হাতে টাকা দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয় বরং ছিল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। কাজেই এখন যে সব হত্যাকা সংঘটিত হচ্ছে তা কেবল ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য চলছে-এমনটিও বলা যায় না।

আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য বলে এদেশ কখনো আইএস বা জঙ্গিবাদীদের দেশ হতে পারে না। এ দেশ আশাবাদের দেশ, নতুন স্বপ্ন বোনার দেশ, এগিয়ে চলার দেশ, বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার দেশ। আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী। বাঙালি জানে বিজয় ছিনিয়ে আনতে। এই সব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাঙালির উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতাকে কেউ রুখতে পারবে না। উন্নয়নের মহাসড়কে থেকে দেশকে আর কেউ পিছিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। শত বাধা বিপত্তি এড়িয়ে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবেই।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থা এই সব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী, একথা যদি তর্কের খাতিরে আমরা ধরেও নিই তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বিশ্বব্যাপী হত্যাকাণ্ডের কারণ তবে কী? কারো মতামত, চিন্তা, ধ্যানধারণা তথা জীবন ধারণের ব্যাপারে অন্যের থেকে ভিন্ন হতে পারে- তাই বলে তাকে হত্যা করতে হবে- এমন কোনো বিধান নেই। দেশে প্রচলিত আইনকানুন রয়েছে-যার আশ্রয় নিয়ে যে কেউ প্রতিবাদ করতেই পারে। কারো বক্তব্য যদি অন্যের অনুভূতিতে আঘাত লাগে তবে সেই ব্যক্তি প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভুত পরিস্থিতির সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে আমরা এর বিপরীত অবস্থা দেখছি।

একটি গণতান্তিক দেশে ভিন্ন মত থাকবেই। কিন্তু ভিন্ন মত দমনের নামে মানুষ হত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা এই সব হত্যার মতো জঘন্য কাজে লিপ্ত, তাদের উচিত হবে যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের দাবিদাওয়া প্রকাশ করা। আলাপ, আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা। মানুষ হত্যা করে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা, আতঙ্ক এবং প্রচার পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মনে রাখা জরুরি হত্যার মাধ্যমে কখনই শান্তি কায়েম করা যায় না। যারা মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছে তাদের উচিত সে পথ ছেড়ে প্রচলিত ধারায় ফিরে আসা।

মানুষ হত্যার মাধ্যমে তারা কখনই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন হত্যা আতঙ্কে রয়েছে। কে কখন হত্যার শিকার হয়- সে সংশয় আমাদেরকে সর্বদা তাড়া করছে। এই ভাবে জীবন যাপন করা যায় না। এই সব হত্যা মানবসভ্যতার কলঙ্কের ভীত রচনা করছে। যেভাবেই হোক না কেন, এই সব হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে হবে। হত্যা নয়, বরং শান্তি আলোচনা, সমঝোতার মাধ্যমে সমাজে সমস্যার সমাধান হোক। আমাদেরকে চাপাতির কোপ রুখতে হবে। দমন করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং সেই দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। কারণ জান ও মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। ‍

মিঠুন মিয়া : প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]