প্রবাসী নেতার ‘টাকা খেয়েছেন’ রিজভী-শিমুল!

ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬

প্রবাসী নেতার ‘টাকা খেয়েছেন’ রিজভী-শিমুল!

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ৮:০০ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৬

প্রবাসী নেতার ‘টাকা খেয়েছেন’ রিজভী-শিমুল!

বিএনপির মালয়েশিয়া কমিটি গঠন নিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন মালয়েশিয়া বিএনপির অনুমোদিত কমিটির সভাপতি শহীদুল্লাহ শহীদ।

শহীদের দাবি— টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আবার অন্য এক পক্ষের থেকে সুবিধা নিয়ে আরো একটি কমিটি গঠন করেছেন রিজভী আহমেদ।

তিনি দাবি করেছেন, রিজভী আহমেদ একাধিক ফোন নম্বর থেকে নিজে বারবার ফোন করে একাধিক নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে গত মাসে শবে বরাতের পরদিন ২৪ ঘণ্টায় তিন লাখ টাকা নিয়েছেন।

রিজভী আহমেদের টাকা চাওয়া সংক্রান্ত সকল ফোনালাপ ও বিকাশ নম্বর প্রমাণ হিসেবে নিজের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন শহীদুল্লাহ শহীদ।

নকল হান্নান শাহ এবং দুই লাখ টাকার বাণিজ্য!
মালয়েশিয়ার ওই নেতা জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহর ছবি ব্যবহার করে প্রথমে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। হান্নান শাহ-এর রেফারেন্স ব্যবহার করে শহীদকে জানানো হয় যে, দল খুব আর্থিক অনটনে যাচ্ছে। তাই পুরনো ত্যাগী নিবেদিত নেতাদের নিয়ে আজীবন সদস্য করার একটি কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দুই লাখ টাকা লাগবে। এই দুই লাখ টাকা চারটি বিকাশ নম্বরে দ্রুত পাঠাতে বলা হয়, একইসঙ্গে চারটা বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয়।

রাত ১টায় রিজভী আহমেদ নিজে ফোন করে এই দুই লাখ টাকা দাবি করে তা পরদিন দুপুর ১২টার মধ্যে পৌঁছানোর তাড়া দেন।

নিজের পদ ধরে রাখা ও দলের সিনিয়র নেতার দাবি রাখতে প্রথমে এক লাখ টাকা রাতেই পাঠানোর ব্যবস্থা করেন শহীদুল্লাহ। শহীদুল্লাহ টাকাটা চেকে বা ক্যাশে দলীয় কার্যালয়ে পাঠাতে চাইলে তাতে রাজি হননি রিজভী আহমেদ। এক লাখ টাকা প্রথমে পাঠালেও পরে সন্দেহ হওয়ায় তিনি রিজভীকে আর টাকা পাঠাননি।

এ মুহূর্তে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন আ স ম হান্নান শাহ। তার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, টাকা পয়সা লেনদেন সংক্রান্ত কোনো বিচার তার কাছে শহীদুল্লাহ দেননি। তার (শহীদ) সাথে কেন্দ্রের যাদের টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে তাদের কান ধরে টাকা উদ্ধারের পরামর্শ দেন হান্নান শাহ। প্রয়োজনে মামলাও করতে বলেন তিনি।

রোয়ানুর ত্রাণের এক লাক টাকা লোপাটের অভিযোগ
শহীদুল্লাহ অভিয়োগ করেন গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ত্রাণ বিতরণের নামে মালয়েশিয়া প্রবাসী নেতাদের কাছে রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ চার লাখ টাকা দাবি করেন। সহযোগিতার মানসিকতায় শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে মালয়শিয়ার নেতারা দুই লাখ টাকা রিজভী আহমদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে পাঠান। ২৭ মে রিজভী আহমেদ ত্রাণ বিতরণে যাবেন বলে প্রবাসী নেতাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ত্রাণ বিতরণে না যাওয়ায় প্রবাসীরা আর টাকা পাঠাননি। এর বাইরেও মে মাসের ৩০ তারিখ নিজে উপস্থিত থেকে মালয়েশিয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্য দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে বলেছিলেন রিজভী আহমেদ। কিন্তু আকস্মিকভাবেই তিনি এই কথা অস্বীকার করে বসেন। কিন্তু এরইমধ্যে মালয়েশিয়া প্রবাসী বিএনপি নেতাকর্মীদের হল বুকিংসহ আনুষঙ্গিক প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়।

রিজভী আহমদের সাথে সকল কথপোকথনের রেকর্ড শহীদুল্লাহর কাছে আছে বলে দাবি করেন তিনি। শহীদুল্লার হাত থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে পরে ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান নামে সাবেক এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকে সভাপতি করে মালয়েশিয়া বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও অভিয়োগ করেন এ প্রবাসী নেতা।

একইরকম তথ্য জানান মালয়েশিয়া বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ই-মেইলে মালয়েশিয়া বিএনপির অনুমোদিত ও প্রতিপক্ষ কমিটির নেতাদের সবার নাম ও মোবাইল নম্বর তাদের কাছ থেকে চেয়ে নেন রিজভী আহমেদ। পরে সেই তালিকা ধরে নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে বিভিন্ন ইস্যুতে টাকা চাইতে থাকেন। নেতারাও কেউ পদের লোভে, কেউবা লোক লজ্জার ভয়ে টাকা দিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মালয়েশিয়া বিএনপির নতুন এক কমিটি ঘোষণা করে বসেন। আগের অনুমোদিত কমিটির সকল তথ্য প্রমাণ ওই কমিটির নেতাদের কাছে থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সকল কাগজপত্র গায়েব করে ফেলা হয়েছে।

চেয়ারপারসনকে সালাম, আক্কেলসালামি এক লাখ টাকা
মালয়েশিয়া বিএনপি নেতা শহীদুল্লাহ অভিয়োগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার (খালেদা) বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের দাবি মতো এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। টাকা নেওয়ার পর শিমুল বিশ্বাস আর কোনো সহযোগিতা করেননি।

শহীদ বলেন, অনেক অনুনয় বিনিনয় করে এবং অপর কয়েকজন নেতার সহায়তায় দূর থেকে বেগম জিয়াকে কেবল একবার সালাম দিতে পারার সৌভাগ্য হয়েছিল।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস টেলিফোনে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, শহীদুল্লাহর সঙ্গে কখনো আমার কোনো বিষয়ে কথা হয়নি।

মালয়েশিয়ার নেতাকর্মীরা এ সব বিষয় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকনকে জানিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমার মনে নেই। আমি চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুহুল কবির রিজভী। সোমবার বিকেলে পরিবর্তন ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (শহীদ) চিনি না, কখনো দেখা হয়নি।’

এরপর রিজভী বলেন, ‘শহীদুল্লাহ একজন ফাজিল ও বদমায়েশ লোক।’

টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে রিজভী বলেন, ‘আমার কি অন্য কোনো সোর্স নেই, যে তার কাছ থেকে বিকাশে টাকা নিতে যাব? এ ধরনের কথা সে মহাসচিব সম্পর্কেও ছড়িয়েছে। সে কেন এরকম করছে জানি না।’

এআরপি/একে/এইচএসএম