আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে শেষ আটে ফ্রান্স

ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে শেষ আটে ফ্রান্স

পরিবর্তন ডেস্ক ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৬

আয়ারল্যান্ডের স্বপ্ন ভেঙে শেষ আটে ফ্রান্স

সাত বছর আগে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২০১০ বিশ্বকাপের প্লে-অফের ম্যাচে ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ চলছিল। প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে ফরাসি তারকা থিয়েরি অঁরির হ্যান্ডবল রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। সেই সুবাদে উইলিয়াম গ্যালাম গোল করে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকেট এনে দেন। সেদিন রাগে, ক্ষোভে, হতাশায়, কান্নায় মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আয়ারল্যান্ডকে।

সাত বছর পর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেই ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেয়ার মোক্ষম এক সুযোগ পেয়েছিল রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। খেলা শুরু হতে না হতেই স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে প্রতিশোধ নেয়ার ইঙ্গিত দেয় আয়ারল্যান্ড। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিটের এক ঝড়ে উবে যায় আইরিশ রূপকথা। দুর্দান্ত প্রতাপে ঘুরে দাঁড়িয়ে আয়ারল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স।

বাংলাদেশ সময় রোববার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে খেলার দ্বিতীয় মিনিটেই রবি ব্রাডির গোলে এগিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। প্রথমার্ধে ১-০ গোলেই এগিয়ে ছিল আইরিশরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে ফ্রান্সকে জয় এনে দেন আন্তনিও গ্রিজম্যান।

লিঁও অনুষ্ঠিত ম্যাচে দর্শকরা নড়েচড়ে বসার আগেই স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। খেলার ৭৫ সেকেন্ডের মাথায় বক্সের ভেতরে আয়ারল্যান্ড স্ট্রাইকার শেন লংকে ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা বাজে ট্যাকল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট-কিক থেকে হুগো লরিসকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালে পাঠিয়ে আইরিশ শিবিরকে আনন্দে ভাসান ব্রাডি।

শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার পর চাঙা হয়ে উঠে আইরিশ শিবির। অন্যদিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া আক্রমণ করেন পগবা, গ্রিজম্যান ও দিমিত্রি পায়েতরা। তবে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলেও কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ১-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আয়ারল্যান্ড।

বিরতির পরপরই অন্য এক ফ্রান্সের দেখা মেলে লিঁওর মাঠে। একের পর এক আক্রমণে আইরিশ শিবিরকে তটস্থ করে তোলে স্বাগতিকরা। এর ফলও পায় দলটি। ৫৭তম মিনিটে বাকরি সাগনার দুর্দান্ত ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের আনন্দে ভাসান অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার গ্রিজম্যান।

সমতায় ফেরার পর উজ্জীবিত হয়ে উঠে ফ্রান্স। চার মিনিট পর আইরিশ শিবিরকে স্তব্ধ করে দিয়ে এগিয়ে যায় দিদিয়ের দেশমের দল। সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে অরক্ষিত গ্রিজম্যানকে বক্সের ভেতরে পাস বাড়ান অলিভার জিরুড। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন গ্রিজম্যান।

পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে দিশেহারা হয়ে পড়ে আয়ারল্যান্ড। ৬৬তম মিনিটে গোলের জন্য বল নিয়ে ছুটতে থাকা গ্রিজম্যানকে ফেলে দিলে রেফারি আইরিশ খেলোয়াড় ডুপিকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় আয়ারল্যান্ড।

প্রতিপক্ষ দল দশজনে নেমে আসায় আরো আক্রমণাত্মক হয়ে খেলার সুযোগ পায় ফ্রান্স। গ্রিজম্যান, জিরুডরা একের পর এক আক্রমণে আয়ারল্যান্ড শিবিরকে ব্যস্ত করে ফেলেন। তবে গোল করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে ২-১ ব্যবধানের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয় ফ্রান্স।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত একটায় শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেই ম্যাচে জয় পাওয়া দলটির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।

এমএআই/এটি