স্পেনের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে কোয়ার্টারে ইতালি

ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

স্পেনের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে কোয়ার্টারে ইতালি

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৬

স্পেনের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে কোয়ার্টারে ইতালি

২০১২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছিল স্পেন। এর চার বছর আগে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ইতালিয়ানদের হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় স্প্যানিশরা। ফলে এবারের ইউরোতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইতালি। সেই লক্ষ্যে সফলও হয়েছে দলটি। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে শেষ ষোলোর ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ১৯৬৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা।

প্যারিসের স্তাত দি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই স্পেনকে চেপে ধরে ইতালি। ৩৩তম মিনিটে জর্জিও কিয়েলানির গোলে এগিয়ে যায় গত আসরের ফাইনালিস্টরা। এরপর ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে গ্রাজিয়ানো পেল্লের গোলে স্পেনের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের প্রতিশোধের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইতালিয়ানরা।

অবশ্য কোয়ার্টার ফাইনালে কঠিন এক প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করছে ইতালির জন্য। আগামী শনিবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে জার্মানির মুখোমুখি হবে গত আসরের রানার্সআপ দলটি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে স্লোভাকিয়াকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে জার্মানরা।

সোমবার খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ইতালি। খেলার নবম মিনিটে গোলের দারুণ এক সুযোগও পায় আন্তনিও কন্তের দল। ডি বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ইতালি। আলেজান্দ্র ফ্লোরেঞ্জির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টের কাছে গ্রাজিয়ানো পেল্লেকে খুঁজে পায়। এই সাউদাম্পটন তারকা দুর্দান্ত হেড দারুণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ডেভিড ডি গিয়া।

দুই মিনিট পর ফের আক্রমণ শানায় ইতালি; এবারও স্পেনকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন ডি গিয়া। পেল্লের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে দারুণ এক বাইসাইকেল কিক নেন ইমানুয়েল গিয়াসেরিনি। বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেই শট রুখে দেন ডি গিয়া।

ইতালির আক্রমণে দিশেহারা স্পেন ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার দারুণ চেষ্টা করে। বল দখলে রাখলেও আক্রমণ শানাতে পারেনি গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। উল্টো ৩৩তম মিনিটের মাথায় পিছিয়ে পড়ে দেল বস্কের দল। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে এডার মার্টিনসের নেয়া বুলেটগতির মাটি কামড়ানো শট ঠেকিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি ডি গিয়া। জটলার মধ্য থেকে গিয়াসেরিনির শট স্পেনের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে চলে আসে কিয়েলানির কাছে। দারুণ এক শটে পোস্টের কাছ থেকে লক্ষ্যভেদ করে ইতালিকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিয়েলানি।
বিরতির এক মিনিট আগে ফের গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইতালি। ডি রস্সি স্প্যানিশ মিডফিল্ডার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে নাকাল করে বল নিয়ে বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন। ডি রস্সির পাস থেকে বল পেয়ে গিয়াসেরিনির উদ্দেশ্যে পাস বাড়ান পেল্লে। সান্ডারল্যান্ডের এই সাবেক তারকার বুলেটগতির শট দারুণ দৃঢ়তায় রুখে দেন ডি গিয়া।

বিরতির পরপরই সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে স্পেন। ৫০তম মিনিটে সিলভার কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে গোলপোস্টের ছয় গজ দূর থেকে হেডে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন আলভেরো মোরাতা। তবে সম্প্রতি জুভেন্টাস থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়া এই স্ট্রাইকারের দুর্বল হেড সরাসরি জিয়ানলুইজির বিশ্বস্ত গ্লাভসে জমা পড়লে গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট হয় স্পেনের।

৫৬তম মিনিটে ফের স্পেনের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ডি গিয়া। মাঝমাঠের ওপর থেকে বল নিয়ে দারুণ ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন এডার। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে এডারকে গোলবঞ্চিত করেন ডি গিয়া।

এরপর হুয়ানফ্রা, আরিত আদুরিজ, ইনিয়েস্তা ও মোরাতা মিলে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানান। তবে ইতালির রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

খেলার শেষ ২০ মিনিটে অনেকটাই রক্ষণাত্মক খেলতে শুরু করে দেয় ইতালি। ফলে স্পেনের আক্রমণ বনাম ইতালিয়ান রক্ষণের মধ্যকার ম্যাচ জমে ওঠে। তবে গোল করতে পারেনি স্পেন। উল্টো ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে পেল্লের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইতালি। কাউন্টার অ্যাটাকে ডার্মেইন বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সের ভেতর ক্রস বাড়ান। দুর্দান্ত এক হাফ ভলিতে সেই বল জালে পাঠিয়ে ইতালির জয় নিশ্চিত করেন পেল্লে।

এমএআই/এইচকে