সেলামিটা এখন উল্টো দিতে হয় রনিকেই

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

সেলামিটা এখন উল্টো দিতে হয় রনিকেই

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৬

সেলামিটা এখন উল্টো দিতে হয় রনিকেই

ঈদ আসছে। খুশির ঈদ। সব শ্রেণির মানুষের মত ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের কাছে ছুটছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ব্যস্ততা শেষ করে আবু হায়দার রনি ইতোমধ্যেই মায়ের ছায়াতলেই পৌঁছে গেছেন। ঈদ নিয়ে পরিকল্পনা কি, কেনাকাটা কতদূর এগোলো, ঈদের মজার স্মৃতি কি এসব নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে আড্ডা জমেছিল রনির। সেখানেই জানা গেলো ঈদকে ঘিরে তার আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর কথা।

সেলামি বাঙালির ঈদ সংস্কৃতির মজার একটি অনুষঙ্গ। আনন্দকে খানিকটা বাড়িয়ে নিতে জুড়ি নেই কচকচে কয়েকটি নোটের! রনির জীবনেও সেলামি নিয়ে মজার স্মৃতি আছে। তবে সেটি জানাতে যেয়ে বললেন, 'আগে পেতাম, তবে সেলামিটা এখন উল্টো আমাকেই দিতে হয়।'

অবশ্য ব্যতিক্রম হওয়ার কথাও ছিল না। নেত্রকোনার বারহাট্টার নোয়াপাড়ার সেই দুরন্ত রনি যে এখন টাইগারদের জাতীয় দল তারকা। এবারও গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যেয়ে তাই সেলামি দেওয়ার হাত থেকে মুক্তি মিলছে না রনির।

সেলামিটা নিজেকে দিতে হলেও এবারের ঈদের কেনাকাটার পুরোটা নিজে করছেন না রনি। টুকটাক কিছু কেনাকাটা সেরেই অবশ্য বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু তিন ভাই, দুই বোন আর মা-বাবার সবার জন্য টুকটাক কেনাকাটায় তো মুক্তি মিলবে না! কেনাকাটার কিছু দায়িত্ব তাই ভাই-বোনদের ওপরও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

ঈদের খাবার নিয়েও বাড়তি চাওয়া আছে রনির। নামাজের আগে যেমন সেমাই-রুটি-পায়েসের মত হালকা খাবারে চলে, দুপুরের পর থেকে তেমনি ভারি খাবার চাই তার। তবে সেটা অবশ্যই মায়ের হাতে তৈরি হতে হবে। ঈদে বাড়ি ফিরে সাধারণত বাইরের খাবার টানে না এই পেসারকে।

বাইরের খাবার না টানলেও বাইরের আড্ডাটা কিন্তু মিস করেন না রনি। জানালেন, প্রতি ঈদেই কাছের বন্ধুদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে বিশেষ কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়। এবার ঈদে কোথায় যাচ্ছেন সেটি অবশ্য এখনো গোপনই রাখছেন। তাছাড়া বন্ধুদের সকলে গ্রামে ফেরেনি। সবার সঙ্গে আলোচনারও তো একটা বিষয় থাকে।

ঈদের মজার স্মৃতির কথা বলতে যেয়ে রনিকে যেনো স্মৃতিকাতরতায় পেয়ে বসল। ফিরে গেলেন সেই ৬-৭ বছরের জীবনে। অনেকটা অভিমানের অভিনয় করেই জানালেন, শৈশবের সেই ঈদে নতুন কাপড় কিনে দেওয়া হয়নি তাকে। তবে সবার কাছেই নিজের আবদারের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির আদুরে সদস্যটির জন্য যেনো কারো কোনো বাড়তি খেয়ালই নেই। রনিকে তাই নতুন পোশাক জুটছে না এমন মন নিয়েই ঈদের আগের রাতে ঘুমাতে যেতে হলো।

যথারীতি ঈদের সূর্য উঠলো। ভার মন নিয়ে গোসল সেরে পুরনো কাপড়ে বাড়ির এক কোনায় চুপচাপ বসে থাকলেন রনি। ততক্ষণে বাড়ির অন্য সদস্যরা সকলে নতুন কাপড় পরে তার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে শুরু করেছেন। আরেকটু হলে হয়তো কেঁদেই ফেলতেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেটি হয়নি। তার খুশির ছটাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে চকচকে নতুন কাপড় নিয়ে হাজির হন মা।

আসলে সবাই ইচ্ছে করেই মজার ছলে ঈদের নতুন পোশাকের ব্যাপারটি গোপন রেখেছিলেন রনির কাছে। গল্পের ছলে বলা সেই স্মৃতির কথা জানাতে যেয়ে রনি বললেন, সেদিন প্রথমে অনেক খারাপ লাগলেও পরে বাড়তি আনন্দ তাকে ঈদের মজাটাই কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। শৈশবের সেই মজার স্মৃতিটি আজো নাড়া দেয় রনিকে।

এমএইচ/এটি

 

ক্রিকেট: আরও পড়ুন

আরও