স্তন ক্যান্সারের ‘ঘাতক’ মিলল মহাকাশ গবেষণায়!

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

স্তন ক্যান্সারের ‘ঘাতক’ মিলল মহাকাশ গবেষণায়!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৬

স্তন ক্যান্সারের ‘ঘাতক’ মিলল মহাকাশ গবেষণায়!

বর্তমানে নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ স্তন ক্যান্সার। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। কিন্তু আমরা কি জানি কেন এই স্তন ক্যান্সার হয়? কে বা কারা এই মরণব্যাধির জন্য দায়ী?

অবাক করার মতো হলেও সত্যি যে এই প্রথম স্তন ক্যান্সারের জন্য যা দায়ী তার খোঁজ দিল এমন এক প্রযুক্তি, যার উদ্ভাবন হয়েছিল মহাকাশ গবেষণায়!

মহাকাশযানে থাকা ব্যাকটেরিয়াদের হাত থেকে মহাকাশকে রক্ষা করার জন্যই ওই প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিল। আর সেই প্রযুক্তি দিয়েই কিনা হদিস পাওয়া গেল স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার!

এই বিরল গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন নাসার ভারতীয় বায়োটেকনোলজিস্ট পরাগ বৈশম্পায়ন। সাম্প্রতিক অনলাইন বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস্‌’-এ পরাগের গবেষণার এই খবরটি ছাপা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরি (জেপিএল) থেকে পাঠানো ই-মেলে পরাগ জানিয়েছেন, ‘ব্রেস্ট ডাক্টাল ফ্লুইড’ (স্তনগ্রন্থির নালীর মধ্যে থাকা তরল বা রস)-এ কোন কোন জীবাণু (মাইক্রো-অরগ্যানিজ্‌মস্‌) বা ব্যাকটেরিয়া থাকে সেগুলো তারা মহাকাশ প্রযুক্তি দিয়ে খুঁজে দেখার চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই তারা এই নতুন পথের সন্ধান পান। ‘ব্রেস্ট ডাক্টাল সিস্টেম’ বলতে বোঝায়, প্রচুর স্তনগ্রন্থি আর তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ রাখার জন্য একটি মূল নালী আর প্রচুর ছোট ছোট নালিকা। ওই গুচ্ছ গুচ্ছ স্তনগ্রন্থি থেকেই স্তনদুগ্ধ (ব্রেস্ট মিল্ক) এর নিঃসরণ হয়। ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো তখন ‘ডাক্টাল ফ্লুইড’ থেকে স্তনদুগ্ধে এসে মেশে। তা ছাড়াও স্তনবৃন্ত কোনোভাবে উত্তেজিত হয়ে উঠলেও তার গোড়ার দিকটার কোষ, কলাগুলোতে এক ধরনের তরল বা রসের নিঃসরণ হয়। একে বলা হয়, ‘নিপ্‌ল অ্যাসপিরেট ফ্লুইড’। ওই তরলে প্রাণঘাতি ব্যাকটেরিয়াদের মিশে যেতে দেখা যায়।

পরাগ জানান, যেসব নারীর স্তন ক্যানসার হয়েছে, তাদের স্তনগ্রন্থির নালীর রসে যে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে, কোনও সুস্থ নারীর স্তনগ্রন্থির নালীর রসে সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো থাকে না। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের স্তনগ্রন্থির নালীর রসে ওই ব্যাকটেরিয়াগুলো দ্রুতগতিতে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। আর এখান থেকেই বোঝা যায়, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

স্তনের কোষ (সেল) আর কলায় (টিস্যু) যে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, তার প্রমাণ আগেই পাওয়া গেছে। আর সেই ব্যাকটেরিয়াগুলো যে স্তনগ্রন্থির নালীর রসেও প্রচুর পরিমাণে থাকে, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই।

অন্তত ৯৬ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ব্যাকটেরিয়াগুলোই যে স্তন ক্যান্সারের কারণ এতে কোনো সংশয় নেই।

স্তনগ্রন্থির নালীর রসে থাকা কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া যে স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ, সেটা তারা গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

এ জন্য তারা ২৩ জন সুস্থ নারী আর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত ২৫ জন নারীর ওপর  পরীক্ষা চালান। সেখান থেকে যে সব তথ্য পান সেগুলো তারা মহাকাশ প্রযুক্তির ‘নেক্সট-জেনারেশান জেনোমিক সিকোয়েন্সিং’ পদ্ধতিতে খতিয়ে দেখে বিশ্লেষণ করেন।

স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী এই ব্যাকটেরিয়াদের সন্ধানে মহাকাশ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ব্যাপারে এই গবেষক জানান, ‘মহাকাশে সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব মুক্ত মহাকাশযান পাঠাতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। মহাকাশের যাত্রাপথের পুরোটাই ব্যাকটেরিয়া আর অণুজীবে ভরা। এ কারণে কিছু ব্যাকটেরিয়া মহাকাশযানে থেকে যায়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মহাকাশচারীদের জন্য যেন বিপজ্জনক না হয় সেজন্য ওই বিশেষ মহাকাশ প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছিল। ওই মহাকাশ প্রযুক্তি মহাকাশে থাকা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান দিতে পারে।

স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রেও ব্যাকটেরিয়াদের ভূমিকা আছে কি না, থাকলে কোন কোন ব্যাকটেরিয়া এর জন্য দায়ী, তা জানার জন্যই ওই মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমেই এই প্রথম আধুনিক চিকিৎসায় মহাকাশ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো শুরু হয়।

বিএইচ/এইচএসএম