যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন এখন জাতীয় দাবি

ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯ | ১১ বৈশাখ ১৪২৬

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন এখন জাতীয় দাবি

মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৬

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলন এখন জাতীয় দাবি

একাত্তরের গণহত্যাকারী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের  বিচার এবং জামায়াতে-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি জাহানারা ইমাম গঠন করেছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিকের স্বাক্ষরিত নির্মূল কমিটির ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘সরকার যদি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির গোলাম আযমের বিচার না করে আমরা গণআদালতে তার বিচার করব।’ একই সঙ্গে জামায়াতে-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণেরও দাবি জানিয়েছিল নির্মূল কমিটি।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২ তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় রোববার বক্তারা এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, গণআদালতে গোলাম আযমের বিচারের কর্মসূচি সফল করার জন্য শহীদ জননী জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, সামজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী, ছাত্র-নারী-মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠন করেছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’। যার উদ্যোগে ১৯৯২-এর ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত গণআদালতে গোলাম আযমের বিচার হয়, যা দেখার জন্য সরকারের সকল হুমকি ও বাধা অগ্রাহ্য করে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়েছিল। গত ২৪ বছরে বহু সংগঠন ও ব্যক্তি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন যা পরিণত হয়েছে জাতীয় দাবিতে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দলীয় মহাজোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি এই বিচার বানচাল করার জন্য জামায়াতে-শিবির দেশ বিদেশে বহুমাতৃক চক্রান্ত শুরু করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী একদিকে হেফাজতে ইসলামের মতো জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনকে মাঠে নামিয়েছে। অপর দিকে আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতাকে নানা কৌশলে বশীভূত করে সরকারের কঠোর জঙ্গি-জামায়াত বিরোধী অবস্থান নরম করতে চাইছে। এমনি এক পরিস্থিতিতে আমরা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি।

বক্তারা বলেন, প্রতিটি মানবতাবিরোধী অপরাধীর বিচার ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে সেইসঙ্গে নব্য রাজাকারদেরও চিহ্নিত করতে হবে।

ইস্ট লন্ডনের বাংলা টাউনের স্বাদগ্রিল রেস্টুরেন্টে নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধরণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ আনাছ পাশার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও নির্মূল কমিটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাসনা হেনার সন্তান লন্ডনের বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক নাদিম কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক তালহা ইয়াছিন।

শহীদ জননীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সাংবাদিক মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমেদ উল্লাহ, সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহমুদ এ রউফ, যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাংবাদিক শাহাব উদ্দিন বেলাল, ইউকে নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাট্যকর্মী স্বাধীন খসরু, নির্মূল কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার চৌধুরী প্রমুখ।

আরআর/কেআরএস