সক্রিয় বিএনপির কর্মসূচি বিক্ষোভ!

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সক্রিয় বিএনপির কর্মসূচি বিক্ষোভ!

হাবিবুল্লাহ জুনায়েদ ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৬

সক্রিয় বিএনপির কর্মসূচি বিক্ষোভ!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় হত্যা চেষ্টায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক শফিক রেহমানকে কেন্দ্র করে ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে বিএনপি। এছাড়াও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শওকত মাহমুদের মুক্তি দাবির পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ অন্যান্য ইস্যুও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ‘বিক্ষোভ কর্মসূচি’র মাধ্যমে রাজপথে সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটির নীতিনির্ধারকরা।  

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সাংবাদিক শফিক রেহমান পদ-পদবি বা কাগজে-কলমে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলেও বিএনপিতে তার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বিএনপি থেকে শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগের পর বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতেন শফিক রেহমান। তা ছাড়া চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই দিক থেকে শফিক রেহমান বিএনপির জন্য অপরিহার্য।

এ কারণে শফিক রেহমান ইস্যুতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের মত কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাজপথে সক্রিয় হতে চায় বিএনপি। ইতোমধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খালেদা জিয়া। শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জোট নেতাদের সঙ্গে বসবেন তিনি। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া অথবা মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এ তথ্য জানিয়েছেন একাধিক বিএনপি নেতা।

সূত্র মতে, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিষয়বস্তুও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন শফিক রেহমান। এমনকি কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক কমিটির আহবায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাই সার্বিক বিবেচনায় মূলত সাংবাদিক শফিক রেহমান ইস্যুতেই সামনে এগুচ্ছে বিএনপি।

এ ব্যাপারে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এক উপদেষ্টা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপির বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে দলের অনেক সিনিয়র নেতা কার্যকর ভূমিকা পালন না করলেও তিনি (শফিক রেহমান) দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। তা ছাড়া বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্যের বিষয়বস্তু নির্ধারণ ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। যা বেআইনি। তাই সঙ্গত কারণেই বিষয়টিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করছি। শিগগিরই বিএনপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

বিএনপির সদ্য নির্বাচিত যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক হিংসাপরায়ণ হয়ে একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। আর সর্বশেষ বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে কাল্পনিক একটি ঘটনায় গ্রেফতার করা হল। এ ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তাই এ বিষয়ে বিএনপি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। যা সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হবে। এর মাধ্যমে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা দেশবাসী জানতে পারবে।’

কবে নাগাদ হতে পারে এ সংবাদ সম্মেলন?— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে জন্য এখনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি। তবে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করা হবে।’

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সকল কিছু ভালো জানেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে কথা বললেই সকল কিছু জানতে পারবেন।’

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র পরিবর্তন ডটকমে জানায়, সাংবাদিক শফিক রেহমানের মতো একই ইস্যুতে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ফের রিমান্ডে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিএনপি। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, তনু হত্যা, গাজীপুর সিটি মেয়র এম এ মান্নানকে ফের গ্রেফতারের মতো অনেক ইস্যুতে কার্যকর কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় গত মঙ্গলবার রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে খলেদা জিয়ার বৈঠকে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের অনেক সিনিয়র নেতা। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ সময় খালেদা জিয়া তাদের বলেছেন, ‘সকল কিছুই পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বুঝে-শুনে শিগগিরই কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, সাংবাদিক শফিক রেহমান বিষয়ে দলের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের সমন্বয়ে একটি টিম তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ করছে। ইতোমধ্যে সাংবাদিক শফিক রেহমান সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেই হাইপ্রোফাইল সংবাদ সম্মেলন করা হবে। পাশাপাশি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হবে সংবাদ সম্মেলনে বলে জানা গেছে।

এইচজে/এইচএসএম

 

রাজনীতি: আরও পড়ুন

আরও