ঘুম নেই টাঙ্গাইলের তাঁতিদের চোখে

ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ঘুম নেই টাঙ্গাইলের তাঁতিদের চোখে

জেলা প্রতিনিধি ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০১৬

ঘুম নেই টাঙ্গাইলের তাঁতিদের চোখে

নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর সেই শাড়ি যদি হয় তাঁতের শাড়ি তাহলে তো কথাই নেই। ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের তাঁত পল্লীগুলো ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাঁতের খট খট শব্দে মুখরিত তাঁতপল্লী। ক্রেতাদের হাতে পছন্দের পোশাকটি তুলে দিতে দিন-রাত ব্যস্ত তারা। চাহিদা অনুযায়ী ঈদের পোশাক তৈরিতে এখন তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঘুম নেই তাদের চোখে।

এছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। দিনে-রাতে সমানতালে শাড়ি তৈরির কাজ করছেন তারা। তাঁতের শাড়ি এখন শুধু নিন্মবিত্ত-মধ্যবিত্তের পছন্দ নয়। সকল শ্রেণীর নারীর পছন্দ টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি।

বৈচিত্র, নতুনত্ব এবং বাহারি ডিজাইনের কারণে টাঙ্গাইল তাঁতের শাড়ির প্রতি বাঙালি নারীর আলাদা টান বহু বছর ধরেই, যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। তাইতো দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও টাঙ্গাইল শাড়ির রপ্তানি করা হচ্ছে।

এসব শাড়ি দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভারত, লন্ডন, আমেরিকা, দুবাই, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এবারের ঈদে সফট সিল্ক, জামদানি সুতি, ধানসিঁড়ি, আনারকলি, গ্যাস সিল্ক, একতারি, দোতারি, রেশম, মটকা, তন্দুজ ও বালুচড়ি শাড়ির চাহিদা বেশি।

শাড়ির পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে থ্রি পিস, ওড়না ও পাঞ্জাবির কাপড়। প্রকৃতির সাথে রং আর ডিজাইনের মিল রেখে শাড়ি বুনন ও তা ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে এবার শাড়ি ব্যবসার দিকে নজর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি বাড়িতেই নিপুণ হাতে  বুননের কাজ করছেন কারিগররা।

সর্বনিম্ন ৩৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের তাঁতের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ডেনুসিল্ক ৮শ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা, হাফ সিল্ক ৭শ থেকে ৩ হাজার টাকা, সফটসিল্ক ৩ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা ও সুতী শাড়ি সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার বাজিতপুর, করটিয়া, সন্তোষ, বিন্যাফৈর, বেলতা, বড় বেলতাম, দেলদুয়ার উপজেলার চণ্ডি, পাথরাইল, নলসোঁধা, নলুয়া, দেউজান ও বকুলতলা, কালিহাতী উপজেলার বল্লা, রামপুর এবং কুকরাইল গ্রামে তাঁতের শাড়ি তৈরি এবং বিক্রি করা হয়।

কথা হয় কারিগর আশিকুর রহমানের সাথে । তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। ভোর থেকে শুরু করে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে কাজ। প্রতিদিন আমি তাঁতের শাড়ি বিক্রি করছি। ঈদে এবার নতুন নতুন ডিজাইনের টাঙ্গাইলের শাড়ি বাজারে এসেছে। কিন্তু দাম একটু বেশি।

কথা হয় আরেক কারিগর আমিনুলের সাথে। তিনি বলেন, ঈদ কিংবা পূজা আসলে আমাদেরও ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আমরা এখন দিনরাত সমান তালে কাজ করছি।

তাঁতের শাড়ি ক্রয় করার সময় মুনমুন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,  আমি আমার ও পরিবারের জন্য তাঁতের শাড়ি কিনেছি। প্রতি ঈদেই তাঁতের শাড়ি কেনা হয়।

টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি রঘুনাথ বসাক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, কারিগরদের নিজস্ব চিন্তাধারণায় প্রতি বছর টাঙ্গাইল শাড়ির ডিজাইনে বৈচিত্র্য আসছে। এই শিল্পের সাথে জড়িত কারিগরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও তাঁতপল্লী গড়ে তোলা হলে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে। কেননা টাঙ্গাইল শাড়ি যেকোনো শাড়ির তুলনায় ভালো।

এএএন/এসএফ/এইচকে