ফেনীতে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘শারারা’

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

ফেনীতে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘শারারা’

জেলা প্রতিনিধি ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৬

ফেনীতে মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে ‘শারারা’

ফেনীতে ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে। ক্রেতাদের নজর কাড়তে বড় বড় শপিং মলগুলোতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে আয়োজন করা হয়েছে র‍্যাফেল ড্র। এবার ঈদের পোশাক হিসেবে মেয়েদের কাছে বেশি পছন্দ শারারা, বাজিরাও মাস্তানি।

ছেলেদের পছন্দ আড়ংয়ের পাঞ্জাবি, সুলতান, ক্যাজুয়াল, কিউজি, বোম্বে শেরওয়ানি, জিন্স প্যান্ট ক্যান্ডি, বাজরাঙ্গি ভাইজান, আরমানি, ওয়েস্টার্ন, ডেসকট, বার্সেস। শার্টের মধ্যে প্রিন্ট ও বিভিন্ন ডিজাইনের কদর বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে এবছর জামা-কাপড়ের দাম বেশি।

চলতি বছর যেসব মার্কেট বা শপিং মলে র‌্যাফেল ড্রয়ের আয়োজন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে কলেজ রোডে শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপণী বিতান (শহীদ মার্কেট), পোস্ট অফিস রোডে ফেনী সেন্টার, মিজান রোডে গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, জুম্মা শপিং সেন্টার, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স, ট্রাংক রোডে জহিরিয়া টাওয়ার, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে এফ রহমান এসি মার্কেট, মহিপাল প্লাজা ও ট্রাংক রোডের সুপার মার্কেট।

পুরস্কার হিসেবে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, টিভিসহ রকমারি সামগ্রী রয়েছে।

এছাড়া গ্রীণ টাওয়ার, ফেনী প্লাজা, রোকেয়া শপিং সেন্টার, ইব্রাহিম হোসেন মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, ফেনী নিউ মার্কেট, লাভ মার্কেট, আলী আহম্মদ টাওয়ার, আলম মার্কেট, জগন্নাত বাড়ি মার্কেট, আহম্মদ প্লাজা, এসকে সুপার মার্কেট, জে.সি টাওয়ার, সওদাগর পট্টি, খদ্দর পট্টি ও গুলশান মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন অলিগলি সড়কে রয়েছে রকমারি সাজের দোকানপাট।

গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের মায়াবী ফ্যাশন হাউজের স্বত্বাধিকারী সামছুল আলম জানান, তার দোকানে রাখা একটি ভারতীয় শারারা নামের মেয়েদের পোশাক দাম প্রকার ভেদে পাঁচ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তিনি জানান, তার দোকানে দেশীয় পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাকের কদর বেশি।

অপরদিকে জুম্মা শপিং সেন্টারের প্রিতম ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী জিয়া তুহিন বলেন, এবার ভারতীয় পোশাকের তুলনায় দেশীয় হাতের কাজ করা থ্রিপিস, টাঙ্গাইল শাড়ি, বেনারসী কাতানের কদর বেশি। তাছাড়া গরমের কারণে সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। বেচাকেনাও বেশ ভাল হচ্ছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে ঈদের পোশাক কিনতে ফেনীর গ্র্যান্ড হক টাওয়ারে আসা লুনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ জানান, বিভিন্ন দোকানে পছন্দের পোশাক পাওয়া গেলেও দোকানিরা বেশি দাম চাওয়ায় তার বাজেটের সাথে মিলছে না। হয়তো না কিনেই বাড়ি ফিরতে হবে।

একই মার্কেটের রিলোড জ্যান্টস ফ্যাশন হাউজে যুবকদের বেশি ভিড় দেখা গেছে। এ দোকানে পাঞ্জাবি, শার্ট, টিশার্ট, জিন্স প্যান্ট, জুতা-স্যান্ডেল সবই পাওয়া যাচ্ছে। জিনিসপত্র হাতে একাধিক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দ করার মতো কোয়ালিটিসম্পন্ন মাল রয়েছে দোকানে। দামও কিছুটা  সহনীয় বলেই মনে হচ্ছে।

এছাড়া শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের গ্রীন টাওয়ারে দেখা হয় নুরুল আমিন হৃদয় নামের একজন ক্রেতার সঙ্গে। তিনি তিন হাজার টাকা দিয়ে মেয়ের জন্য লেহেঙ্গা কিনেছেন। তার মতে কাপড় অনুযায়ী দাম সহনীয়।

আলী আহম্মদ টাওয়ারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছরের মতো এ বছর পাখি, কিরণমালা, ফ্লোরটাচ ও গর্জিয়াসের তেমন কোনো চাহিদা নেই। পুরানো কাপড়গুলি পড়ে রয়েছে। তবে হাতের কাজ সম্পন্ন পোশাকের চাহিদা ও দাম একটু বেশি বলে জানায় ক্রেতারা।

ছেলেদের সুলতান, ক্যাজুয়াল, বাহুবলী, বাজরাঙ্গি ভাইজান নামের পাঞ্জাবি এবার ঈদে বেশি চলছে। যার মূল্য প্রকারভেদে ৭শ টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

শাড়ি জামাকাপড়সহ পোশাকের পাশাপাশি জুতা স্যান্ডেল এবং নানা জাতের প্রসাধনীর দোকানেও ভাল বেচাকেনা চলছে। তবে জুতার দোকানে এখনো তেমন ভিড় নেই বললেই চলে।

এএএম/এসএফ/এসজে